নায়ক মান্নার জীবনী
কিছু কিছু মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও যেনঅমর হয়ে থাকেন সকলের
মাঝে। চিত্রনায়ক মান্নাও তার ব্যতিক্রম নন। দক্ষ অভিনেতা চিত্রনায়ক মান্না মারা গেলেওআজও যেন বেঁচে আছেন লাখো ভক্তের হৃদয়ের মণিকোটায়। নায়ক মান্নার পুরো নাম এস এম আসলাম তালুকদার।
১৯৮৪ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানেরমাধ্যমে টাঙ্গাইল থেকে এসে চলচ্চিত্রে পা রেখেছিলেন সুদর্শন এই তরুণ। নির্বাচিত হবার পরও কেউ বুঝতে পারেনি লিকলিকেএই তরুণটিই দীর্ঘসময় চলচ্চিত্রশিল্পে রাজত্ব করবে। কঠিন পরিশ্রম, চেষ্টা আর সাধনার মাধ্যমে মান্না নিজেকে কেবল চলচ্চিত্রের সেরা নায়কেই পরিণত করেননি,চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ণে দায়-দায়িত্ব মাথায় নিয়ে চলচ্চিত্রশিল্পকে টেনে নিয়ে গেছেন। তাই উনিশ বছর শীর্ষ নায়কের স্থানটি ধরে রেখে চলচ্চিত্রশিল্পের সেবা করে গেছেন তিনি। ক্যামেরার সামনে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে অভিনয় করেদর্শকদের মন জয় করার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সুখে-দুঃখে সাহস করে এগিয়ে গেছেন। অশ্লীলতাবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি নানারকম হুমকির সম্মুখিন হয়েছেন। তারপরও তিনি থেমে থাকেননি। বেটার ফিল্ম ফোরাম গঠন করে অশ্লীল ছবির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলে এক সময় সফল হয়েছেন।
১৯৮৪ সাল নাগাদ চিত্রনায়ক মান্না ‘নতুন মুখের সন্ধানের’মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পা রাখেন। এস এম আসলাম তালুকদার নামের সেই কিশোর হয়তো আদেও জানত না তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্না। এরপর থেকে একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি দিন সময় লাগেনি মান্নার। মান্না অভিনীত প্রথম ছবি তওবা, তবে প্রথম মুক্তি পেয়েছিল ‘পাগলি’ ছবিটি। নায়ক মান্না প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন। তিনি বঞ্চিত মানুষের কথা সিনেমার পর্দায় সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন যার ফলে তিনি নিরুঙ্কুস জনপ্রিয়তা লাভ করেন। নব্বই দশকে অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা শুরু হলে যে ক’জন প্রথমেই এর তীব্র প্রতিবাদ ও এর ঘোর বিরোধী ছিলেন,তাদের মধ্যে নায়ক মান্না ছিলেন অন্যতম। রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন অশ্লীল চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে।
এসব চলচ্চিত্রের নির্মাতাদের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছিলেন। দাঙ্গা,লুটতরাজ, তেজী, আম্মাজান, পিতা মাতার আমানত,মনের সাথে যুদ্ধ, মায়ের মর্যাদা,বীর সৈনিক,ভাইয়া,আমি জেল থেকে বলছি,দুই বধু এক স্বামী,বশিরা প্রভৃতি ছাড়াওআরো বহু চলচ্চিত্রে চমৎকার অভিনয় এর মাধ্যমে জনপ্রিয়তার চূড়া ছুঁয়েছিলেন মান্না। তাঁর অভিনীত আম্মাজান চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশেরসর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু হঠাৎ বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে মান্না পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক মান্না। বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এখনও হাড়ে-হাড়ে অনুভব করেন তার অনুপস্থিতি। চিত্রনায়ক মান্না কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০০৬ সালে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র এবং মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ছিলেন প্রতিবাদি ও নিবেদিত প্রাণ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। কীর্তিমান এই অভিনেতা ২০০৮ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে অকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুর কাছে নিজেকে সমর্পন করেন।
